
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা। বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদ বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে আগামী ৯ মে। এই দুই তারিখের মধ্যবর্তী সময়ে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ২৪ ঘণ্টার সময়কালে রাজ্যে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নির্বাচনে পরাজয়ের পরও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাধারণত নির্বাচনের ফলাফলের পর বিদায়ী সরকার রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার করে।
কিন্তু এবারের পরিস্থিতিতে সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদ শেষ হলে বিদায়ী মন্ত্রিসভার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। ফলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
এদিকে ২৯৩টি আসনের গেজেট নোটিফিকেশন ইতোমধ্যে রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নরেন্দ্র মোদি সমর্থিত বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। দলটি জানিয়েছে, রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন ৯ মে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।
প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে বলেছেন, রাজ্যপাল চাইলে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে পারেন। তিনি পদত্যাগ করলে নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হতে পারে। তবে সে ব্যবস্থার মধ্যেও অল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
মন্তব্য করুন