
পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম আসনে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন রাজনীতিক শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৬ ও ২০২১ সালের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৬ সালেও তিনি বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেন। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রায় ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।
জয়ের পর নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দীগ্রামের ঋণ আমি শোধ করব। বিজেপি ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকবে।”
বুধবার (৬ মে) সকালে নন্দীগ্রামে ফিরে জয় উদযাপন করেন তিনি। এ সময় হাজারো সমর্থক তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। উচ্ছ্বাসের মধ্যেও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পথেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর- দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে লড়াই করেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। ফলাফলও এসেছে ভালো। দুই আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি।
ফলাফল ঘোষণার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে ভবানীপুরে বিজয় উদযাপন করেন। সেখানকার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতে ওঠেন। পরদিন বুধবার সকালে নিজের এলাকা নন্দীগ্রামে যান শুভেন্দু। পূজা দিয়েছেন বজরংবলির মন্দিরে। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানাতে জনজায়ার দেখা যায়। হাজার হাজার সমর্থকের শুভেচ্ছায় ভাসেন তিনি।
বছরের পর বছর বাংলা শাসনের ভার ছিল কলকাতার বাসিন্দার হাতে। এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। নন্দীগ্রামের মানুষের একটাই দাবি, নিজেদের ভরপুত্রেই যেন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পায়।
এদিন নাম করে নন্দীগ্রামের বহু সহযোদ্ধা, শহিদ পরিবারের সদস্যদের কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। নন্দীগ্রামের চেহারা বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু। মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘নন্দীগ্রামের মানুষ বরাবর আমার ওপর ভরসা করেছেন। ২ বার সাংসদ করেছেন। তিনবার বিধায়ক। নন্দীগ্রামের ঋণ আমি শোধ করবই।’
যেহেতু ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তাই নিয়ম অনুযায়ী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি আসন ছাড়তে হবে শুভেন্দুকে। এদিন নন্দীগ্রামবাসীকে তিনি বলেন, ‘আমার হাতে তো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই, দল যে আসন ছাড়তে বলবে, সেটা আমাকে ছাড়তে হবে। তবে ভবানীপুর হোক বা নন্দীগ্রাম, আমি পাশে আছি, দায়িত্ব পালন করতে আমি ভুল করি না। সিদ্ধান্ত যাই হোক, আমাকে আপনারা সবসময় পাবেন।’
বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “বাংলায় আগামী ১০০ বছর বিজেপি শাসন করবে।” এই মন্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন