
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির বিস্তৃত উপকূলজুড়ে ‘নতুন নিয়ম’ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আইআরজিসির নৌ শাখা পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার উপকূলজুড়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে।
ইরান বলছে, এই জলসীমাকে দেশের জনগণের জীবিকার অন্যতম উৎস ও জাতীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, এটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ঘোষিত ‘নতুন নিয়ম’-এর সুনির্দিষ্ট কাঠামো বা বিধিনিষেধ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান ওই কৌশলগত জলপথে চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করে।
পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়, যদিও সেখানে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক বা নীতিগত পরিবর্তন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের ‘নতুন নিয়ম’ কার্যকর হলে তা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে—তা এখন বিশ্বজুড়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন