
মিয়ানমারের কারাবন্দী সাবেক নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এই তথ্য এসেছে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং–এর এক বিবৃতির বরাতে। তবে এই ঘোষণার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সু চির পরিবার।
জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সু চিকে তার অবশিষ্ট সাজা “নির্ধারিত বাসস্থানে” কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার সঙ্গে দুই সামরিক কর্মকর্তার একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যা গৃহবন্দী করার দাবিকে সমর্থন হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
এর আগে, গত শুক্রবার সু চির আইনজীবী জানিয়েছিলেন, তার সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে। তবে সেই সময়ও পরিষ্কার ছিল না, তিনি গৃহবন্দী হিসেবে বাকিটা কাটাতে পারবেন কি না।
সু চির ছেলে কিম অ্যারিস এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার মা জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়েও তার কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
তবে এই ঘোষণায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না সু চির ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, মা বেঁচে আছেন কি না, তারও কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। প্রকাশিত ছবিটিকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কারণ, এটি ২০২২ সালে তোলা।
কিম অ্যারিস বলেন, ‘আশা করি এটা সত্যি। কিন্তু তাকে (কারাগার থেকে) সরিয়ে নেওয়া হয়েছে— এমন কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। যতক্ষণ না আমি তার সঙ্গে কথা বলতে পারছি বা কেউ স্বাধীনভাবে তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা যাচাই করতে পারছেন, ততক্ষণ কিছুই বিশ্বাস করব না।’
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সু চি সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানা যায়নি। আইনজীবীরা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি; পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে। গৃহবন্দী হিসেবে স্থানান্তরের ঘোষণার আগ পর্যন্ত তাঁর স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন সম্পর্কে কিছুই জানা যাচ্ছিল না। সু চির আইনজীবীরাও জানিয়েছেন, গৃহবন্দী করার বিষয়ে তাঁদের সরাসরি কিছু জানানো হয়নি।
২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। ৮০ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রী মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোর একটি সামরিক কারাগারে বন্দী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
ওই সময় থেকে জান্তা সরকারকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মিন অং হ্লাইং। ৩ এপ্রিল তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না।
মন্তব্য করুন