
মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেই ইরানের জন্য নতুন বাণিজ্য করিডর চালু করেছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। এই পদক্ষেপকে তেহরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে।
পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজ করতে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানগামী পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন তৃতীয় দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ইরানে পাঠানো সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জিওটিভি ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন ট্রানজিট ব্যবস্থার আওতায় করাচিসহ মোট ছয়টি নির্ধারিত রুট ব্যবহার করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও দ্রুততর হবে।
পাকিস্তান সরকার ঘোষিত ছয়টি বাণিজ্যিক রুট হলো :- গাবদ-গোয়াদার, গাবদ-পাসনি-ওরমারা-লিয়ারি-করাচি/পোর্ট কাসিম, তাফতান-দালবান্দিন-খুজদার-করাচি/পোর্ট কাসিম, তাফতান-নোকুন্ডি-দালবান্দিন-কোয়েটা/লাক পাস-খুজদার-বিসমা-নাংগ-পাঞ্জগুর-হোশাব-তুরবাত-গোয়াদার, তাফতান-নোকুন্ডি-দালবান্দিন-কোয়েটা/লাক পাস-খুজদার-লিয়ারি-গোয়াদার এবং গাবদ-গোয়াদার-করাচি/পোর্ট কাসিম।
এদিকে, যুক্তরাষ্টের অবরোধের কারণে গত কয়েকদিনে ইরানগামী তিন হাজারেরও বেশি কন্টেইনার করাচি বন্দরে আটকে পড়ে। নতুন করিডর চালু হলে এই জট দ্রুত নিরসন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মাধ্যমে ইসলামাবাদ কেবল ইরানের বাণিজ্য সহজতর করছে না, বরং ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ইরান।
মন্তব্য করুন