
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সামরিক পদক্ষেপ বা সরাসরি সংঘাতের পথে না গিয়ে বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার দিকে ঝুঁকছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, যা আনাদোলু সংবাদ সংস্থাও উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক নীতিগত বৈঠকগুলোতে ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতি, বিশেষ করে তেল রপ্তানি খাতকে লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ব্যবস্থার ওপর নজরদারি এবং জাহাজ চলাচল সীমিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করা বা পুরোপুরি অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার চেয়ে অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রাখা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। আর এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোও তেহরানের হামলার মুখে পড়ে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও কোনও সমঝোতা হয়নি। পরে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং তেহরানের প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এমন অবস্থায় গত সোমবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করবেন না। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার কথা থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন