
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই দফার ভোটের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, যেখানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
ভোর থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে ইভিএম ত্রুটি এবং সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করা হয়েছে।
এই দফায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে মোট ১৪২টি আসনে, যার মধ্যে রয়েছে রাজধানী কলকাতার ১১টি গুরুত্বপূর্ণ আসন। দক্ষিণবঙ্গের এই অঞ্চলকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রথম দফার ভোটে নজিরবিহীন প্রায় ৯২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় পক্ষই এই উচ্চ ভোটার উপস্থিতিকে নিজেদের সুবিধাজনক ব্যাখ্যায় ব্যবহার করছে।
ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণবঙ্গকে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেয়েছিল ১২৩টি আসনে, বিজেপি ১৮টি এবং বামফ্রন্ট ১টি আসনে জয়ী হয়।
তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটি ভাঙা এখন বিজেপির বড় চ্যালেঞ্জ। দলটি সূত্র অনুযায়ী পরিসংখ্যানের ওপর ভরসা রেখে পরিকল্পনা সাজিয়েছে। যেখানে আগে তারা এগিয়ে ছিল, সেই আসনগুলোকে কেন্দ্র করে তারা কৌশল তৈরি করেছে।
তাদের আশা, এর মাধ্যমে প্রথম দফার ফল এবং ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের ব্যবধান কমানো যাবে।
বিজেপির কৌশলে রয়েছে কঠোর রাজনৈতিক ইস্যু—চাকরি, অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি এবং নারীর নিরাপত্তা। এর পাশাপাশি কলকাতার খানাখন্দে ভরা রাস্তা নিয়ে কটাক্ষ এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে যেন ঝালমুড়ির মতোই মশলাদার এক মিশ্রণ, যাতে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদিও।
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা তুলে ধরেছেন ‘বহিরাগত’ তকমা, রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, এসআইআর এবং ‘সবজি বাজার।’ তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম। কিছু এলাকায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা তৃণমূলের জয় ব্যবধানের চেয়েও বেশি।
সবচেয়ে বড় লড়াই হচ্ছে কলকাতার ভবানীপুরে। এই আসনে বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে।
তাদের আগের নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের ফলাফলের কারণে এই মর্যাদার লড়াই সবার নজর কাড়ছে।
মমতা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময় দক্ষিণ কলকাতার এই আসন থেকে ৫১ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই আসনে ২১ সালের নির্বাচনে ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন মমতা।
মন্তব্য করুন