
ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী নেতারা একজোট হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং মধ্যপন্থী নেতা ইয়ার লাপিদ ঘোষণা দেন, তারা রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্য দূরে রেখে নতুন জোট গঠন করছেন।
ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী এই দুই নেতার উদ্যোগে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘টুগেদার’, যা আসন্ন নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন এবং নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই জোট গঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লাপিদ বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের এই ঐক্য।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে একটি “ধ্বংসাত্মক পথে” এগোচ্ছে এবং এখনই একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল সরকার গঠন জরুরি।
উল্লেখ্য, নেতানিয়াহু ২০২২ সালের নভেম্বরে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তার শাসনামলে গাজা উপত্যকায় পরিচালিত এক ভয়াবহ যুদ্ধে এ পর্যন্ত সাড়ে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তুলেছে। এ ছাড়া হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে ইসরায়েলকে জড়িয়ে ফেলার কারণে অভ্যন্তরীণভাবেও নেতানিয়াহু প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছেন।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলি নাগরিকদের কাছে নেতানিয়াহুর তথাকথিত ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী’ ভাবমূর্তি এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দেশটির সাধারণ মানুষ এখন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী অক্টোবরের শেষে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই নতুন ‘টুগেদার’ জোট নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন সুতার ওপর ঝুলছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বিরোধী দলগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে কেবল যুদ্ধ নয়, বরং বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও ইসরায়েলের রাজপথে নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতিতে বেনেট ও লাপিদের জোটবদ্ধ হওয়াকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু কি পারবেন এই নতুন জোটের মোকাবিলা করে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে, নাকি ‘টুগেদার’ জোটের হাত ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে—সেদিকেই এখন নজর পুরো বিশ্ব রাজনীতির। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনাপূর্ণ মোড় নিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন