
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নেতৃত্বে আসেন তার ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্যের আবরণ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনির কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তার নির্দেশনাগুলো শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করতে না চাওয়ার কারণে তিনি সচেতনভাবেই জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় মোজতবা খামেনির নিরাপত্তা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার কিংবা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করছেন না।
গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রচলিত প্রযুক্তির বাইরে আদিম পদ্ধতি—হাতে লেখা বার্তা খামে সিলগালা করে বিশ্বস্ত বাহকের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। মোটরসাইকেল বা সাধারণ গাড়িতে করে গোপন পথে এসব বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তার অবস্থানস্থলে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। মুখে আঘাত পাওয়ায় তাকে প্লাস্টিক সার্জারি করাতে হয়েছে এবং ঠোঁটে আঘাতের কারণে তার কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে।
এছাড়া তার একটি পায়ে তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কৃত্রিম পা লাগানোর অপেক্ষায় আছেন। তবে তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ ও সক্রিয় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মোজতবা খামেনির চিকিৎসার বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দেখা হচ্ছে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরাসরি তার সেবাশুশ্রুষায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের একটি বড় দলের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
এদিকে মোজতবা খামেনির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এসব দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতেই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন