
মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই অঞ্চলে অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরিও রয়েছে।
এই সামরিক অবস্থান ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। সম্ভাব্য চুক্তি ও যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তাড়াহুড়া নেই এবং প্রয়োজনে তারা দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম।
ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সাময়িকভাবে কিছু শক্তি সঞ্চয় করতে পারে, তবে মার্কিন বাহিনী চাইলে তা অল্প সময়ের মধ্যেই নিষ্ক্রিয় করতে পারে। তার ভাষায়, “তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য বিরতির সময়ে ইরান কিছু রসদ সংগ্রহ করতে পারে, তবে প্রয়োজন হলে একদিনেই সেই সক্ষমতা গুড়িয়ে দেব।
দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে তাড়াহুড়ো করতে বলবেন না। ইরানের প্রায় ৭৫ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে’।
যুদ্ধ আগে দেওয়া তার চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার দাবির বিষয়ে সাংবাদিকরা চাপ দিলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিও সামান্য বিরতি নিয়েছিলাম। আমি সবচেয়ে ভালো চুক্তিটি করতে চাই, আমি এখনই একটি চুক্তি করতে পারি। তাদের পুনর্গঠন করতে ২০ বছর সময় লাগবে, কিন্তু আমি তা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি এর ওপর তেমন কোনো সময়সীমা চাপিয়ে দিতে চাই না, তবে এটি খুব দ্রুতই ঘটবে এবং আমরা হরমুজ প্রণালি খুলে দেব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানিরা আমাদের কাছে এসে বলেছিল, আমরা প্রণালীটি খুলে দিতে রাজি আছি এবং এতে আমার সব লোকজন খুশি হয়েছিল। আমি ছাড়া প্রত্যেকেই খুশি ছিল। আমি বললাম, এক মিনিট দাঁড়ান, যদি আমরা প্রণালীটি খুলে দিই, তবে এর মানে হলো তারা প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলার আয় করবে। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমি চাই না তারা প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার আয় করুক। তাই আমিই এটি বন্ধ রেখেছি।’
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন