
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সন্ত্রাসবিরোধী শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর নৈতিক অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিলাসবহুল জীবনযাত্রার খরচ চালাতে ডেটিং সাইটের মাধ্যমে বিত্তশালী পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে অর্থ ও উপহার গ্রহণ করতেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ২৯ বছর বয়সী ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জুলিয়া ভারভারো। তার বিরুদ্ধে একজন ব্যক্তি হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইনস্পেক্টর জেনারেলের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিভাগীয় তদন্তের আওতায় এসেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগকারী ব্যক্তি—যাকে ‘রবার্ট বি’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে—দাবি করেন যে, ডেটিং অ্যাপ ‘হিঞ্জ’-এর মাধ্যমে তার সঙ্গে ভারভারোর পরিচয় হয়। মাত্র তিন মাসের সম্পর্কের মধ্যেই তিনি প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের উপহার ও ভ্রমণ খরচ বহন করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘সিকিং ডটকম’ নামের একটি ডেটিং সাইটে ‘আলেসিয়া’ ছদ্মনামে ভারভারোর একটি প্রোফাইল পাওয়া গেছে, যেখানে তিনি নিজেকে বিলাসবহুল জীবনধারার একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতেন।
অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি ভারভারোর অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার অর্ধেক পরিশোধ করেছেন এবং তাকে আরুবা, সুইস আল্পস ও ইতালির মতো ব্যয়বহুল স্থানে ভ্রমণে নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি কার্টিয়ার ব্র্যান্ডের গয়না ও দামি হ্যান্ডব্যাগসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল উপহারও কিনে দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারভারো নিজেকে ‘বস প্রিন্সেস’ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং নিয়ম-কানুনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন বলে ধারণা করতেন।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে গাঁজা বা মারিজুয়ানা সেবনের ঘটনাও ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংস্থাগুলোর নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের মাদক সেবন সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্যতার কারণ হতে পারে।
জুলিয়া ভারভারো অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ডেইলি মেইলকে জানিয়েছেন যে তিনি ভুল কিছু করেননি। তার দাবি, ‘সিকিং ডটকম’-এ তার কোনো প্রোফাইল নেই এবং তার একজন ‘উন্মাদ প্রাক্তন প্রেমিক’ এসব বানোয়াট অভিযোগ ছড়িয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। তবে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে ভারভারোর ইনস্টাগ্রামের ছবির সঙ্গে ওই ডেটিং প্রোফাইলের ছবির মিল রয়েছে কি না।
ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে যখন নানা মহলে সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে নতুন করে সংকটে ফেলেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মন্তব্য করুন