
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির জবাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হুমকি ও চাপের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে না। দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা না হলে ইরানে আবারও সামরিক হামলা বা বোমাবর্ষণ শুরু হতে পারে। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ কঠোর ভাষায় বলেন, “আমাদের হাতে এবার একটি তুরুপের তাস এসেছে। যুদ্ধ শুরু হলে তা প্রয়োগ করা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাপের মাধ্যমে আলোচনাকে “আত্মসমর্পণের টেবিলে” পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ইরান কখনোই মেনে নেবে না।
একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে গালিবাফ বলেন, “হুমকির মধ্যে কোনো আলোচনা হয় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার কোনো অর্থ নেই।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান নতুন কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রয়োগ করা হতে পারে।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়ে ইরান যে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে, তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের হাতে একটা নতুন কার্ড এসেছে। ফের যুদ্ধ শুরু হলে, আপনারা সেটা দেখতে পাবেন।’
তবে সেই “নতুন কার্ড” বা কৌশল কী—তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মূলত দু’টি বিষয়কে কেন্দ্র করেই ঘুরপাক খাবে দ্বিতীয় দফার বৈঠক। প্রথমত, পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায় মজুত ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক ইরান। একই সঙ্গে অন্তত ১২ বছরের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখুক তারা। কিন্তু তাদের এমন দাবি মানতে রাজি নন ইরান। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি। কোনোভাবেই হরমুজ অবরুদ্ধ করে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান ওমান উপসাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলে কিছু শর্ত আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এমন অবস্থায় ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার ফল নিয়ে আশাবাদী হলেও ইরান তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ইরানিরা কোনো ধরনের জোরজবরদস্তির কাছে মাথা নত করে না।’
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দিকে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন