
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি না হলে নির্দিষ্ট সময়ের পর থেকেই পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।
গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ২২ এপ্রিল বুধবার। তবে সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম।”
এদিকে, ইসলামাবাদ-এ দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থতা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি ব্লুমবার্গ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিলেও ট্রাম্প একটি ‘ভালো’ চুক্তির ব্যাপারে নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তড়িঘড়ি করে কোনো অসম্পূর্ণ বা বাজে চুক্তিতে তিনি সই করতে চান না। একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং অর্থবহ চুক্তির জন্য মার্কিন প্রশাসন সময় নিতে প্রস্তুত বলেও তিনি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা অর্থাৎ বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা পার হতে যাচ্ছে। এখন বিশ্ববাসীর নজর ওয়াশিংটন এবং তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্য করুন