
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী গরিলা হিসেবে পরিচিত ‘ফাতু’ সোমবার উদ্যাপন করেছে তার ৬৯তম জন্মদিন। জার্মানির বার্লিন চিড়িয়াখানায় দিনটি পালন করা হয় বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে, যেখানে তাকে পরিবেশন করা হয় স্বাস্থ্যসম্মত সবজির ভোজ।
ফাতুর জন্মদিনে কোনো কেক রাখা হয়নি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বয়স বেশি হওয়ায় এবং স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তার খাবারে চিনি রাখা হয়নি। বরং তাকে দেওয়া হয় চেরি টমেটো, বিট, লিকস ও লেটুস পাতার মতো স্বাস্থ্যকর সবজি।
ফাতু একটি ‘ওয়েস্টার্ন লোল্যান্ড’ গরিলা। তাকে ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পশ্চিম বার্লিনে আনা হয়, তখন তার বয়স আনুমানিক দুই বছর ছিল বলে ধারণা করা হয়। যদিও তার সঠিক জন্মতারিখ জানা যায় না, তবে ১৩ এপ্রিলকে তার আনুষ্ঠানিক জন্মদিন হিসেবে ধরা হয়।
সাধারণত বন্য পরিবেশে গরিলা সাধারনত ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। তবে চিড়িয়াখানার মতো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তারা আরও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে।
২০২৪ সালে ‘ইনগো’ নামের একটি ফ্লেমিঙ্গোর মৃত্যুর পর থেকে ফাতুই এখন এই চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বয়স্ক বাসিন্দা। ইনগো পাখিটির বয়স অন্তত ৭৫ বছর হয়েছিল বলে ধারণা করা হতো। সে ১৯৫৫ সাল থেকে এই চিড়িয়াখানায় ছিল।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, ফাতুর জন্ম সম্ভবত পশ্চিম আফ্রিকার কোনো বনে। পরে এক ফরাসি নাবিক তাকে আফ্রিকা থেকে এনে ফ্রান্সের মার্সেই শহরে একটি বারের বিল পরিশোধের বিনিময়ে দিয়ে দেন। পরবর্তীতে এক ফরাসি পশু ব্যবসায়ী তাকে চিড়িয়াখানার কাছে বিক্রি করেন বলে জানা যায়।
বর্তমানে ফাতু চিড়িয়াখানায় ভেতরে আলাদা তার নিজের একটি ঘরে বসবাস করে। বয়সের কারণে সে অন্য গরিলাদের থেকে দূরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সে তার দাঁত হারিয়েছে এবং রয়েছে হালকা গেঁটেবাত ও শ্রবণ সমস্যাও।
তবে বার্লিন চিড়িয়াখানার প্রাইমেট সুপারভাইজার ক্রিশ্চিয়ান অস্ট বলেছেন, ফাতু চিড়িয়াখানার কর্মীদের সঙ্গে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। তবে এটাও ঠিক, সে কিছুটা জেদি স্বভাবের।
৬৯ বছর বয়সে এটুকু জেদ করার অধিকার ফাতুর আছে। ফাতু, তোমাকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
মন্তব্য করুন