
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে আগামী দুই দিনের মধ্যেই—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাকিস্তানকে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানায়, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই আলোচনায় অগ্রগতি হতে পারে এবং সে কারণে ইসলামাবাদে উপস্থিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তিনি বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে কিছু একটা ঘটতে পারে, তাই আপনাদের সেখানেই থাকা উচিত। আলোচনার জন্য আমরা পাকিস্তানে যেতেই বেশি আগ্রহী।
পাকিস্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সামরিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সক্রিয়তার কারণে ইসলামাবাদ এখন আলোচনার জন্য উপযুক্ত স্থান।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো দেশে আলোচনায় যেতে চায় না, যার এই ইস্যুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল আবারও ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারে।
এর আগে গত শনিবার ও রোববার যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল, যা ১৯৭৯ সালের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
এদিকে আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ইসলামাবাদ পরবর্তী দফার আলোচনার সময়সূচি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং বৈঠকটি সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠিত হবে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি যে তারা দ্বিতীয় দফা আলোচনায় আগ্রহী’।
অন্যদিকে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি, তবে উভয়পক্ষ শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত দিনগুলোকেই বিবেচনা করছে।’
এরআগে গতকাল সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রিসভাকে দেওয়া এক ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে ‘পূর্ণ প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রয়েছে।
শেহবাজ শরীফ বলেন, ‘আজও যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে। আমি যখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, তখনও যেসব বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলো সমাধানের জন্য পূর্ণ প্রচেষ্টা চলছে।’
ইসলামাবাদ আলোচনা পাকিস্তানকে ‘আসন্ন যুদ্ধের মেঘকে স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করার সুযোগ দিয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি ইতিহাসের দিকে তাকান — যেমন অসলো চুক্তি, জেনেভা চুক্তি, গুড ফ্রাইডে চুক্তি… দেখবেন শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক মাস, এমনকি কখনও কখনও বছরও লেগেছে।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনায় নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে প্রধান ছিল হরমুজ প্রণালি— বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট, যা ইরান কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা।
আলোচনা শেষ হওয়ার পর ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একটি অত্যন্ত সহজ প্রস্তাব নিয়ে এখান থেকে যাচ্ছি, বোঝাপড়ার একটি পদ্ধতি যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব।’
সূত্র: ডন
মন্তব্য করুন