
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইসরায়েল আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন—এমন একটি বিতর্কিত ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের পর তা নিজেদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ।
মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১২ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই সংবাদের মূল উৎস ছিল এরদোয়ানের প্রায় দুই বছর পুরোনো একটি বক্তব্য, যেটিকে ভুল প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এরদোয়ান ইসরায়েলকে “রক্ত ও ঘৃণায় অন্ধ” বলে অভিযুক্ত করেন এবং সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
এছাড়া আরও দাবি করা হয়, তিনি নাকি বলেছিলেন— আমরা যেভাবে লিবিয়া ও কারাবাখে প্রবেশ করেছি, ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটতে পারে।
এই বক্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
তদন্তে জানা যায়, উদ্ধৃতিগুলো ছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তুরস্কের রিজে শহরে একে পার্টির স্থানীয় এক সভায় দেওয়া এরদোয়ানের পুরোনো বক্তব্যের অংশ।
সেখানে তিনি মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানান এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করেন। তবে সেই বক্তব্যকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।
তুরস্ক সরকারের যোগাযোগ অধিদপ্তর এক বিবৃতিতে এই দাবিকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ভুল তথ্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব প্রচার করা হচ্ছে। তুরস্ক সবসময়ই রক্তপাত বন্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পক্ষে কাজ করে আসছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুল ধরা পড়ার পর সোমবার সকালে টেলিগ্রাফ তাদের অনলাইন সংস্করণ থেকে সংবাদটি মুছে ফেলে। পত্রিকাটির একজন ঊর্ধ্বতন সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে স্বীকার করেন, সংবাদে ব্যবহৃত উদ্ধৃতিগুলো হয় অনেক পুরোনো অথবা পুরোপুরি বানোয়াট ছিল, তাই প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এরদোয়ানের সেই ২০২৪ সালের বক্তব্যে তিনি মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি নৃশংসতা ঠেকাতে তুরস্ককে শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিবিয়া ও কারাবাখের উদাহরণ টেনে সামরিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা বর্তমানে নতুন করে ছড়ানো সংঘাতের সাথে সম্পর্কিত ছিল না।
গত এক সপ্তাহ ধরে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এরদোয়ানের বিরুদ্ধে কুর্দি নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ইরানকে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। এর জবাবে আঙ্কারার কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুকে ‘এই যুগের হিটলার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই টেলিগ্রাফের মতো একটি বড় সংবাদমাধ্যমের এই ধরনের ভুল সংবাদ প্রকাশ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আরও তিক্ততা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে উভয় দেশের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করে চলেছেন।
সূত্র: দ্য মিডল ইস্ট আই
মন্তব্য করুন