
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
একটি প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনায় ইরান এই প্রস্তাব উপস্থাপন করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অন্তত ২০ বছরের জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়, যা দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামাবাদে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় দেশ পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব বিনিময় করে। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশ দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে দীর্ঘমেয়াদী কোনো বাধ্যবাধকতা মেনে নিতে অনাগ্রহী। এই কারণেই আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
যদিও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি, তবে আলোচনায় কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব উঠে এসেছে যা ভবিষ্যতে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ এড়াতে দুই পক্ষই পর্দার আড়ালে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং ইরানের অনড় মনোভাবের কারণে এই সংকট সমাধানের প্রক্রিয়াটি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কেবল শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা বিশ্বাস করতে পারছে না। ওয়াশিংটন চায় তেহরান তাদের সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে গুটিয়ে নিক অথবা দীর্ঘ সময়ের জন্য তা সিলগালা করে রাখুক।
ইরান এই শর্তকে তাদের মর্যাদাহানি হিসেবে দেখছে। বর্তমানে হরমোজ প্রণালিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের এই প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই পক্ষ দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসলে এই প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে আবারও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন