
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দরে অবরোধ কার্যকর করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার ব্যর্থতার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর অধীনস্থ সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ১৩ এপ্রিল সকাল থেকে ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী সব ধরনের জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। ফলে, যেকোনো দেশের জাহাজ যদি ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে চায়, তাহলে তা কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মুখোমুখি হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে যে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াত করবে, তাদের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। এতে বোঝা যাচ্ছে, পুরো প্রণালিতে অবরোধ না দিয়ে সীমিত আকারে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের বেশি হয়। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অন্যদিকে, ইরান এই পদক্ষেপকে সরাসরি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, কোনো সামরিক জাহাজ ইরানের কাছাকাছি এলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার ব্যর্থতার পরই এই অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
মন্তব্য করুন