
লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক হামলার প্রতিবাদে পূর্বনির্ধারিত কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা আগামী সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র ফেলো আব্বাস আসলানি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছেন যে ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো তেহরান ত্যাগ করেনি।
তিনি জানান, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকাকালীন কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে রাজি নয় ইরান। তার ভাষায়, “ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো তেহরান থেকে রওনা দেয়নি। যতক্ষণ লেবাননে হামলা চলবে, ততক্ষণ ইসলামাবাদে কোনো আলোচনা হবে না।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননে চলমান সংঘাত পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে আলোচনার পরিবেশ কার্যত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠক স্থগিতের পেছনে শুধুমাত্র যুদ্ধ পরিস্থিতি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি United States প্রশাসন একটি ১০-দফা শান্তি পরিকল্পনার কাঠামো থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এ বিষয়ে আব্বাস আসলানি বলেন, এতে ইরানের মধ্যে একটি বড় ধরনের “আস্থা সংকট” তৈরি হয়েছে, যা কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতও এই মুহূর্তে আলোচনার বিপক্ষে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক মাসে আলোচনার প্রক্রিয়া চলাকালেই ইরান দুইবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কেন বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে?
এই জনচাপ ইরানি প্রতিনিধি দলের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে, যা ইসলামাবাদ আলোচনা পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পাকিস্তান বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতা এই পরমাণু বা আঞ্চলিক সমঝোতার পথকে আরও সংকুচিত করে তুলছে।
মন্তব্য করুন