
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আসল চুক্তি” পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, চুক্তি লঙ্ঘন হলে এমন ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই বক্তব্য দেন। তিনি জানান, ইরানের আশপাশে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি—জাহাজ, বিমান এবং সেনা সদস্যরা—প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও অস্ত্রসহ সেখানে অবস্থান করবে, যতক্ষণ না চুক্তি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়।
চুক্তি লঙ্ঘনের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি আরও যোগ করেন, “যদি কোনো কারণে চুক্তিটি পালন করা না হয়—যদিও এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম—তবে ‘যুদ্ধ’ শুরু হবে। সেই লড়াই হবে এযাবতকালের দেখা যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে বিশাল, উন্নত এবং শক্তিশালী।
সাবেক এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, অনেক আগেই একটি সমঝোতা হয়েছে যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা হবে। তিনি একে ‘আসল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বিরোধী পক্ষ থেকে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলেও এটাই আসল সত্য।
সবশেষে নিজের বাহিনীর মনোবল চাঙ্গা করতে ট্রাম্প লেখেন, আমাদের মহান সামরিক বাহিনী বর্তমানে রসদ সংগ্রহ করছে এবং বিশ্রাম নিচ্ছে। তারা মূলত তাদের পরবর্তী বিজয়ের জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছে। আমেরিকা ফিরে এসেছে!
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি ইরানকে এক চরম চাপের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্য করুন