
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তার অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইল জেএএসএসএম-ইআর-এর প্রায় সম্পূর্ণ মজুদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রয়োজনের চাপে অন্য অঞ্চল থেকে সংরক্ষিত অস্ত্রও সরিয়ে এনে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২৩০০টি জেএএসএসএম-ইআর মিসাইল ছিল। কিন্তু গত চার সপ্তাহের অভিযানে ইতিমধ্যেই ১০০০টিরও বেশি মিসাইল ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে মাত্র ৪২৫টি মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সীমিত মজুদ দিয়ে বড়জোর ১৭টি বি-১বি বোমারু বিমানের একটি মিশন পরিচালনা করা সম্ভব। অথচ বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
হোয়াইট হাউস দাবি করলেও যে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বড় অংশে ধ্বংস হয়েছে, বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সম্প্রতি একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে এবং আরও একটি এ-১০ অ্যাটাক জেট ও দুটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া, ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত ১২টিরও বেশি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ আধিপত্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভাষণে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা ওদের প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গুঞ্জন উঠেছে, ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনা করছে মার্কিন মেরিন ও প্যারাট্রুপাররা। তবে অত্যাধুনিক মিসাইল ফুরিয়ে আসায় এখন পুরোনো বি-৫২ বোমারু বিমান দিয়ে সস্তা জেডিএএম বোমা ফেলার কৌশল নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে বসে নেই ইরানও। আঞ্চলিক দেশগুলোর তথ্যমতে, ইরান ইতিমধ্যে ১৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৪০০০-এর বেশি শাহেদ ড্রোন ছুড়েছে। এসব হামলা ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামও শেষ হয়ে আসছে। বিশ্বখ্যাত লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স কর্পোরেশন উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় তা যৎসামান্য। ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধে আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন