
ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে হঠাৎ করেই অপসারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ, যারা একাধিক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়েছে।
ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, জেনারেল জর্জ সেনাবাহিনীর ৪১তম চিফ অব স্টাফ পদ থেকে অবসর নিয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত মার্কিন সেনাপ্রধান চার বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসাবে জর্জের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই এই পরিবর্তন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বরখাস্তকৃত সামরিক কর্মকর্তা জর্জ ২০২৩ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে মনোনীত হন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে এ পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। মার্কিন সেনাপ্রধান ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং ইরাক ও আফগানিস্তানের সংঘাতগুলোতে জর্জ বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পরেই এ সর্বশেষ সেনাবাহিনীতে বড় রদবদলটি এলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিবিএসকে বলেছেন, আমরা তার সেবার জন্য কৃতজ্ঞ, কিন্তু সেনাবাহিনীতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় এসেছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র পার্নেল বলেছেন, যুদ্ধ বিভাগ আমাদের জাতির প্রতি জেনারেল জর্জের কয়েক দশকের সেবার জন্য কৃতজ্ঞ। আমরা তার অবসর জীবন কামনা করি।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, জেনারেল জর্জের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন জেনারেল ক্রিস্টোফার লানিভ। তিনি এর আগে প্রতিরক্ষা সচিবের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি তুঙ্গে এবং এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সৈন্য সেখানে অবস্থান নিয়েছে। এমন যুদ্ধকালীন মুহূর্তে সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করার ঘটনা নজিরবিহীন। অচমকা সেনাপ্রধানের অপসারণ পেন্টাগনের ভেতরে চরম অস্থিরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও জানান তারা।
উল্লেখ্য,এর আগে গত বছর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি.কিউ. ব্রাউনসহ নৌ ও বিমানবাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন