
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো স্থল অভিযান চালানো হলে আক্রমণকারীদের কেউই জীবিত ফিরতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার থেকে অনলাইন ভাষণে ইরানের স্থল, বিমান প্রতিরক্ষা, বিমান ও নৌবাহিনীর কমান্ডারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জেনারেল হাতামি। তিনি বলেন, ইরানি সেনাবাহিনী যেকোনো ধরনের আক্রমণ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত—হোক তা প্রতিরক্ষামূলক কিংবা আক্রমণাত্মক।
তিনি সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন শত্রুর গতিবিধি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রতিটি মুহূর্ত বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে।
জেনারেল হাতামি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর স্থল আক্রমণের ক্ষেত্রে ‘একজন ব্যক্তিও যেন বেঁচে না থাকে’, আক্রমণকারীদের প্রতি ‘কোনো ক্ষমা নেই’ নীতির প্রতিফলন করা হবে।
ইরানের কৌশলগত লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে যুদ্ধের ছায়া অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানিরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে, ততক্ষণ কোনো এলাকা যেন অরক্ষিত না থাকে।’ তিনি উল্লেখ করেন, শত্রুদের তাদের উদ্দেশ্য সাধনে সহায়তা করা হবে না।
যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের পুনর্গঠন সংক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া মন্তব্যেরও সমালোচনা করে হাতামি বলেন, ‘এই মন্তব্যগুলো ইরানের নাম ও অস্তিত্ব মুছে ফেলার মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুদের আসল উদ্দেশ্যকেই প্রমাণ করে।’
তিনি আরও বলেন, জনগণের দৃঢ় সংকল্প এবং এই বৈরী পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার পরিপ্রেক্ষিতে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত “ইরানের জন্য সবকিছু” এই মূলনীতির অধীনে সকল প্রচেষ্টা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে এবং সেনাবাহিনী পূর্ণ শক্তিতে আগ্রাসনকারীদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত থাকবে।
অন্যদিকে গতকাল এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আব্দুল্লাহ বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইসলামি প্রতিরোধ ফ্রন্ট দুর্বল হয়নি; বরং আরও শক্তিশালী হয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ জোটের পতনের যে দাবি করা হয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আব্দুল্লাহ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল প্রতিরোধ ফ্রন্ট ভেঙে পড়ছে বা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে বাস্তবে তারা এই জোটের অপ্রত্যাশিত শক্তির মুখোমুখি হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ এবং ইরাকের বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠী— ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে— সাহস, ঈমান ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। তার দাবি, এসব শক্তি প্রমাণ করেছে যে মার্কিন নেতৃত্ব ও ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা তাদের মোকাবিলা করতে অক্ষম এবং শেষ পর্যন্ত এই শক্তিশালী ফ্রন্টের সামনে নতি স্বীকার করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
মন্তব্য করুন