
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন দিতে চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান রমজান কাদিরভের অনুগত বাহিনী বর্তমান মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক তৎপরতাকে একটি ধর্মীয় যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা এই সংঘাতকে ‘জিহাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে—এটি ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য সরাসরি হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। চেচেন ইউনিটগুলোর এই অবস্থান সংঘাতকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় মার্কিন প্রশাসন এখন স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই পরিকল্পনা এগোচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলছিল। ওই সময় ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার এবং দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় ১৭০ জনেরও বেশি শিশুসহ (স্কুলে হামলায়) সাধারণ নাগরিকদের হত্যার ঘটনা ঘটে।
প্রেস টিভি বলছে, এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত ৮৬ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা ইসরাইলের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে।
এছাড়া ইউক্রেনীয় বাহিনীর উপস্থিতি, যারা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সমর্থন দিচ্ছে, বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তাদের এই সম্পৃক্ততা রাশিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব মস্কো ও কিয়েভের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
সূত্র: প্রেস টিভি
মন্তব্য করুন