
পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ–এর খ্যাতনামা সাংবাদিক ও উপস্থাপক হামিদ মীর যুক্তরাষ্ট্রকে “বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র” হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি আলোচিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন।
‘অবাধ্য ট্রাম্পের প্রতিকার’ শিরোনামের ওই লেখায় তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর যুদ্ধকামী নীতি দেশের ভেতরেই তীব্র জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
হামিদ মীরের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের নীতিতে অসন্তুষ্ট মার্কিন জনগণ ২৮ মার্চ দেশব্যাপী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। একদিনেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে “রাজা চাই না—ট্রাম্প দূর হও” স্লোগান দেয়।
তিনি এই পরিস্থিতিকে সরাসরি “শাসন পরিবর্তনের দাবি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হয়ে ওঠে।
হামিদ মীর বলেন, এই যুদ্ধের ফলে শুধু আন্তর্জাতিক উত্তেজনাই বাড়েনি, বরং মার্কিন জনগণের ওপরও ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই ট্রাম্পের প্রতি জনগণের অসন্তোষ বাড়তে থাকবে।
হামিদ মীর লিখেছেন, ট্রাম্প বিশ্বাস করতেন যে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির হত্যার পর ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং ঠিক যেমনভাবে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টের গ্রেফতারের পর মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশটির তেল ভান্ডার লুট করেছিল, ইরানেও একই ঘটনা ঘটবে।
কিন্তু ইরান ইস্যু নিয়ে ট্রাম্পের সব ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তেল সংকট দেখা দিয়েছে।
এই যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হতে থাকবে, ট্রাম্পের প্রতি জনগণের অসন্তোষ ততই ঘৃণায় পরিণত হবে। ইউরোপীয় দেশগুলোও ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল জিও নিউজের উপস্থাপক আরও বলেন, ইরান পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যা পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন- বিখ্যাত মার্কিন গবেষক নোয়াম চমস্কি বহু বছর আগে একটি বই লিখেছিলেন, যার অনুবাদ ‘রোগ স্টেটস’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।
চমস্কি এই বইয়ে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান, ইরাক এবং উত্তর কোরিয়াকে দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে, কিন্তু বাস্তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হলো স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্র, যে কিনা কোনো আন্তর্জাতিক আইন মানে না।
মন্তব্য করুন