মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘ইরান যুদ্ধকে ‘আরমাগেডন’ বলায় পেন্টাগনের ভেতরে অস্বস্তি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
ইরান যুদ্ধকে ‘আরমাগেডন’ বলায় পেন্টাগনের ভেতরে অস্বস্তি  ¦  ছবি: এএফপি / ফাইল ফটো

২০২৬ সালের ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী কমব্যাট ইউনিটের কমান্ডার তার অধস্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে এমন দাবি করেন, যা এখন দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কেবল ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং এটি ‘ঈশ্বরের পরিকল্পনার’ অংশ।

তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে এই ‘আরমাগেডন’ শুরুর জন্য ‘অভিষিক্ত’ করা হয়েছে। এই মন্তব্য এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের কাছে জমা পড়া শতাধিক অভিযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি কোনো একক ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি—দেশে ও বিদেশে—থেকে একই ধরনের অভিযোগ আসছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু কমান্ডার যুদ্ধের সময় বাইবেলের ‘বুক অফ রেভেলেশন’ থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন এবং এই সংঘাতকে যিশু খ্রিস্টের পুনরাগমনের পূর্বলক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

বিষয়টি এতটাই গুরুত্ব পেয়েছে যে, জ্যারেড হাফম্যান এবং জেমি রাসকিনের মতো প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্যরা এখন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলকে দিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত গত ৪ দিনে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর একাধিক ধর্মীয় বিশ্লেষক বাইবেলের বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ম্যাথু ২৪:৬-৭ অনুচ্ছেদে যিশুর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তোমরা যুদ্ধ ও যুদ্ধের গুজব শুনবে, কিন্তু ভয় পেয়ো না। জাতির বিরুদ্ধে জাতি এবং রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজ্য উঠবে।’ একইভাবে ইজেকিয়েল ৩৮:৫ অনুচ্ছেদে ‘পারস্য’ বা বর্তমান ইরানের কথা উল্লেখ আছে, যেখানে ‘শেষ জমানায়’ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইউটিউবের জনপ্রিয় ‘লিভিং ওয়াটার্স’ পডকাস্টের গবেষকরা গত বছরই সতর্ক করেছিলেন, প্রেরিত পলের থেসালোনিকীয় ৫:৩-এর ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’র বার্তার পর হঠাৎ বিনাশ আসবে। কাকতালীয়ভাবে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর ট্রাম্প যখন ‘এখনই শান্তির সময়’ বলে পোস্ট দেন, ঠিক তখনই দামেস্কের একটি গির্জায় ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত হন। এই দুটি ঘটনার সময়কাল ও ধরন ধর্মতাত্ত্বিকদের মধ্যে ‘শেষ দিনের’ আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মূল ভিত্তি হলো এর সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা। যেকোনো যুদ্ধের ময়দানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই অলিখিত দেয়ালটি ধসে পড়ছে। যখন একজন কমান্ডার যুদ্ধকে ‘পূর্বনির্ধারিত’ বা ‘অবশ্যম্ভাবী’ বলে প্রচার করেন, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত বিশ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্বকে গ্রাস করে ফেলে। ইরানের ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) একটি ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করলেও যুক্তরাষ্ট্র যদি সেই একই পথে হাঁটে, তবে তা প্রাতিষ্ঠানিক পতন হিসেবে গণ্য হবে।

সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি সব সময় অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রতিনিয়ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে। কিন্তু যখন কোনো সংঘাতকে ‘দৈব চিত্রনাট্য’ হিসেবে দেখা হয়, তখন বিকল্প কোনো চিন্তার সুযোগ থাকে না। যদি ধরে নেওয়া হয় যে যুদ্ধের ফলাফল ঈশ্বর আগে থেকেই লিখে রেখেছেন, তবে সেখানে বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণ বা কূটনৈতিক আলোচনার কোনো স্থান থাকে না। এর ফলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় ‘রেড-টিমিং’ বা বিকল্প পরিকল্পনার ক্ষেত্রে। কোনো কর্মকর্তা যদি শান্তি বা ডিল-এর প্রস্তাব দেওয়াকে ‘ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরোধিতা’ হিসেবে দেখেন, তবে তিনি সত্য বলা থেকে বিরত থাকবেন, যা সামরিক বাহিনীর জন্য আত্মঘাতী।

পেন্টাগনের বর্তমান নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও এই ধর্মীয় আবেশের ছায়া দেখা যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বিভিন্ন দাপ্তরিক সভায় প্রকাশ্যেই ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করছেন। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে বসে তার এই ধরনের মন্তব্য নিচুতলার কমান্ডারদের জন্য একটি পরোক্ষ বার্তা হিসেবে কাজ করে। সামরিক বাহিনীর মতো একটি কঠোর সোপানযুক্ত প্রতিষ্ঠানে লিখিত আদেশের চেয়েও উপরের মহলের ‘মনোভঙ্গি’ অনেক সময় বেশি কার্যকরী হয়।

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ডিটারেন্স কাজ করে যুক্তির ওপর ভিত্তি করে। ইরান যদি মনে করে, ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তগুলো কোনো যৌক্তিক বিশ্লেষণ নয় বরং ‘দৈববাণী’ দ্বারা পরিচালিত, তবে তারা কোনো কূটনৈতিক সংলাপে অংশ নেওয়ার আগ্রহ হারাবে। মিত্র দেশগুলোও আজ সন্দিহান। একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র যদি বৈজ্ঞানিক তথ্যের চেয়ে ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণীকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে, তবে তা পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যই হুমকি।

সূত্র: ডেইলি মেইল

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, চাকু উদ্ধার

কালীগঞ্জে সর্বত্র মাদকের রমরমা ব্যবসা / হুমকির মুখে যুবসমাজ, আতঙ্কে অভিভাবকরা

২০২৬-২৭ বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

দেশের ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

নড়াইলে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, ২ মাসের কারাদণ্ড

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে!

X