
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় তিনটি কন্টেইনার জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালিটি খোলা রয়েছে এমন বক্তব্য দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এসব জাহাজ অনুমোদিত করিডোরের বাইরে দিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। পরে নৌবাহিনীর সতর্কবার্তার মুখে জাহাজগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়। তবে জাহাজগুলোর মালিকানা বা দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর বন্দর থেকে যেকোনো জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত ও বাংলাদেশের মতো কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুরোধ ইরান গ্রহণ করেছে। তার ভাষায়, প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং ‘শত্রুদের জন্য সীমাবদ্ধ’।
এদিকে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, তারা চীনা প্রতিষ্ঠান কসকোর দুটি কন্টেইনার জাহাজ শনাক্ত করেছে, যেগুলো ইরানের উপকূলবর্তী সংকীর্ণ জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করে ফিরে গেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে চলাচল সীমিত করেছে ইরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালানো হতে পারে। পরে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি প্রথমে ৫ দিন এবং সর্বশেষ সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করেন। তবে এ ধরনের কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইরান।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
মন্তব্য করুন