মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানি ড্রোন ঠেকাতে ব্যবহার হচ্ছে মিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ইরানি ড্রোন ঠেকাতে ব্যবহার হচ্ছে মিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান

চলমান ইরান-উপসাগরীয় সংঘাতের আকাশে এক অদ্ভুত যুদ্ধ চলেছে। একদিকে উড়ছে ইরানের তৈরি সস্তা ও ধীরগতির শাহেদ-১৩৬ ড্রোন, অন্যদিকে তা প্রতিহত করতে ব্যবহার হচ্ছে কয়েক মিলিয়ন ডলারের আধুনিক পশ্চিমা যুদ্ধবিমান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ অনেকটা ‘মশা মারতে কামান দাগানো’-এর মতো, যা দীর্ঘমেয়াদে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে বিপুল চাপ সৃষ্টি করছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক ও পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা লরেন কানের মতে, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান দিয়ে ড্রোনের ঝাঁক প্রতিহত করা দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এর পেছনে মূল কারণ হলো আকাশচুম্বী খরচ ও ড্রোন-যুদ্ধবিমানের মধ্যকার অসম আর্থিক সমীকরণ।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের একেকটি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের দাম ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার। অথচ মাত্র একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এক ঘণ্টা আকাশে ওড়াতেই খরচ হয় ২৫ হাজার ডলারের বেশি। ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত ‘এআইএম-৯এক্স সাইডউইন্ডার’ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির দাম প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং ‘এআইএম-১২০ অ্যামরাম’ ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লাই গ্রুপ’-এর নির্বাহী আনাতোলি খ্রাপচিনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, শত্রু যদি শত শত সস্তা ড্রোন ছোড়ে আর তা ধ্বংস করতে লাখ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তবে এই প্রতিরক্ষা মডেল দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করবে না।

কেবল অর্থ নয়, ড্রোন মোকাবিলায় যুদ্ধবিমানের সার্বক্ষণিক ব্যবহার বিমানবাহিনীর সক্ষমতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। স্টিমসন সেন্টারের গবেষক কেলি গ্রিকো জানান, ড্রোনের গতি যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় পাইলটদের জন্য লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়। এছাড়া একটানা উড্ডয়নের ফলে বিমানগুলোর দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন পড়ছে এবং বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

মূলত উপসাগরীয় দেশগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিকে বেশি প্রাধান্য দিলেও ড্রোনের মতো ধীরগতির ও নিচ দিয়ে ওড়া ছোট লক্ষ্যবস্তুর মোকাবিলায় তারা কিছুটা অপ্রস্তুত ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান প্রায় তিন হাজার ড্রোন ছুড়েছে যার বড় অংশই উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। এই বিশাল খরচ কমাতে এখন নতুন কিছু বিকল্প নিয়ে ভাবছে মিত্র দেশগুলো। ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন লেজার প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা ভাবছে, যাতে প্রতিটি ড্রোন ধ্বংসের খরচ হবে প্রায় ‘শূন্য’।

এছাড়া হেলিকপ্টার ও স্বল্পপাল্লার ভারী গুলির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইউক্রেনের তৈরি ১০ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এই অঞ্চলে পাঠিয়েছে যাতে সস্তা ড্রোন দিয়েই শত্রু ড্রোন প্রতিহত করা যায়। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল ড্রোন ঠেকিয়ে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা সম্ভব নয়; তেহরানের ড্রোনের মজুত ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতা কমিয়ে আনাই হবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস নাটক, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

X