
ভারতের বিমানবাহিনীতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে গুপ্তচর পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশল ও গোপন তথ্য পাচার করছে। সম্প্রতি এই ধরনের একটি গুপ্তচর চক্র ভারতীয় বিমানবাহিনী শনাক্ত করেছে। এরপর থেকে শুরু হয়েছে গোপন ও স্পর্শকাতর তদন্ত কার্যক্রম। খবর দ্য হিন্দুর।
তদন্ত চলাকালীন আসামের একটি বিমানবাহিনী ঘাঁটি থেকে সুমিত কুমার (৩৬) নামে একজন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। তাকে পাকিস্তানের জন্য তথ্য পাচারের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত স্বীকার করেছেন যে, তিনি ইতোমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইসলামাবাদে পাঠিয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন ভারতের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক (গোয়েন্দা) প্রফুল্ল কুমার।
রাজস্থান গোয়েন্দা সংস্থা রোববার (২২ মার্চ) জানায়, আসামের একটি ভারতীয় বিমানবাহিনী স্টেশনে কর্মরত একজন বেসামরিক কর্মচারীকে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা প্রফুল্ল জানান, রাজস্থান গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থার একটি যৌথ অভিযানে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে জয়সলমীর থেকে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে এই তদন্ত শুরু হয়। এর সূত্র ধরেই সুমিতকে শনাক্ত করা হয়।
উত্তরপ্রদেশের এই বাসিন্দা ডিব্রুগড়ের চাবুয়া বিমানবাহিনী স্টেশনে 'মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ' হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত সুমিত স্বীকার করেছেন যে, তিনি ২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং টাকার বিনিময়ে গোপন তথ্য সরবরাহ করছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সন্দেহ করা হচ্ছে যে, সুমিত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভারতের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অবস্থান এবং বিমানবাহিনী সদস্যদের বিভিন্ন তথ্যসহ রণকৌশলসহ বিমানবাহিনীর বিভিন্ন সংবেদনশীল বিবরণ সংগ্রহ ও পাচার করেছেন।
প্রফুল্ল বলেন, সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। তিনি আরও কী কী তথ্য পাচার করেছেন তা জানতে কিছুটা সময় লাগবে।
মন্তব্য করুন