
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১৭ জন আহত হয়েছেন। হামলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাধা দিতে না পারায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, দিমোনা শহরে চালানো এ হামলা তেহরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে পূর্ববর্তী হামলার প্রতিক্রিয়া। উল্লেখযোগ্যভাবে, দিমোনাতেই ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা রয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় আরাদ শহরে ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পাশের দিমোনা শহরে আরেকটি হামলায় আহত হন আরও ৩৩ জন।
হামলার ফলে আবাসিক ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভবনের সামনের অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিস্ফোরণে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, দিমোনা ও আরাদে শত শত কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনকারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। আরাদে অন্তত তিনটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি ভবনে আগুন ধরে যায়।
এই হামলায় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফফি ডেফরিন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জানান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস স্থগিত করে অনলাইনে পাঠদান চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক কর্মী।
হামলার পর এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ভবিষ্যতের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এটি একটি কঠিন সময় হলেও সব ফ্রন্টে শত্রুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মন্তব্য করুন