
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমাতে এবং ইরান ইস্যুতে নতুন কূটনৈতিক দিক নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির জন্য ছয়টি মূল শর্ত নির্ধারণ করেছেন। এই তথ্য জানিয়েছেন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
সংবাদে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। তবে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক কার্যক্রম তৎপরভাবে চলছে। মিসর, কাতার এবং যুক্তরাজ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান করছে। ওয়াশিংটন চায় সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক শক্তি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসন যে শর্তগুলো দিয়েছে তা অত্যন্ত কঠিন। শর্তগুলো হলো:
১. আগামী ৫ বছরের জন্য ইরানের সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত রাখতে হবে। ২. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। ৩. নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। ৪. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি মেনে নিতে হবে। ৫. আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ১,০০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ৬. হিজবুল্লাহ, হুতি এবং হামাসের মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সব ধরনের আর্থিক ও সামরিক সমর্থন বন্ধ করতে হবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে মূলত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত কমিয়ে আনাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য। তবে এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের এই শর্তগুলো তেহরানের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী হলেও ট্রাম্পের শর্তগুলো অত্যন্ত কঠোর। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ প্রসঙ্গে বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে সরতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা হবে না- এমন আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দাবি করেছে তেহরান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অনড় অবস্থানের কারণে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো হয়তো সম্ভব হবে না। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে চলমান এই বার্তা আদান-প্রদান মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানোর একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: শাফাক নিউজ, অ্যাক্সিওস
মন্তব্য করুন