
ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায় ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার এ পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর আলজাজিরা
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশে অবস্থিত সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের স্থাপনায় হামলা ঘটেছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র, যা ইরান ও কাতার যৌথভাবে ব্যবহার করে।
হামলার পরপরই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয়। এতে পুরো অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।
পরবর্তীতে কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়, যা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ঘটেছে বলে জানানো হয়। যদিও পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও দৈনন্দিন পণ্যের খরচও বাড়ে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। কিন্তু সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দৈনিক ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক চাহিদার একটি বড় অংশ।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি সাময়িকভাবে নিজস্ব জাহাজ চলাচল আইনে ছাড় দিয়েছে, যাতে বিদেশি জাহাজও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করতে পারে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সঙ্গে সীমিত কিছু লেনদেনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরাকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আবার তেল রপ্তানি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
মন্তব্য করুন