
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার ইঙ্গিত দিয়ে আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি বেসবল ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন, যা দ্রুতই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড বেসবল ক্লাসিকের সেমিফাইনালে ইতালিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এই জয়ের পর ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ভেনেজুয়েলাকে অভিনন্দন জানান।
তিনি লেখেন, ভেনেজুয়েলা সম্প্রতি বেশ ভালো করছে এবং দেশটির উন্নতির পেছনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই তিনি হালকা ঢঙে বলেন— ‘ভেনেজুয়েলা যদি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়, তাহলে কেমন হয়?’
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় ট্রাম্প বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল নিয়ে এমন মন্তব্য আগেও করেছেন। গ্রিনল্যান্ড ও কানাডাকে নিয়েও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এদিকে এই জয়ের ফলে ভেনেজুয়েলা ফাইনালে উঠেছে এবং সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই জয় পেয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হন। এর আগে ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক পাচারের সন্দেহে নৌযানগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালানো হয়।
মাদুরো আটক হওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ বাড়াবে এবং জ্বালানি খাত আধুনিকায়নে কাজ করবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার মনোযোগ বেশি রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায় এবং ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ২ দশমিক ৮৮ ডলার থেকে বেড়ে তা রোববার ৩ দশমিক ৬৮ ডলারে পৌঁছায়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও এতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক অর্থ আয় করবে’। যদিও নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি জ্বালানি খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এর আগে ইউরোপে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন বলেও দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। একইভাবে কানাডাকেও যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রিয় ৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর কথা বলেছিলেন তিনি। সম্প্রতি তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ‘ভবিষ্যৎ গভর্নর’ বলেও উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন