
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ১৮তম দিনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন পারমাণবিক যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। লোহিত সাগরে মোতায়েন থাকা এই রণতরীটিকে সাময়িকভাবে গ্রিসের সুদা বে বন্দরে স্থানান্তর করা হচ্ছে, জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (১৭ মার্চ)।
মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজের মূল লন্ড্রি এলাকায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রায় ২০০ জন নাবিক ধোঁয়াজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাহাজের ভিতরে প্রায় ১০০টি শোয়ার কক্ষ বা বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে পেন্টাগন জানিয়েছিল যে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা ইঞ্জিন অক্ষত রয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও মেরামতের জন্য শেষ পর্যন্ত বন্দরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বাধুনিক রণতরীটি গত নয় মাস ধরে মোতায়েন রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আসার আগে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযানেও অংশ নিয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে অবস্থান করার ফলে জাহাজের নাবিকদের মনোবল এবং রণতরীটির সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সামরিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে এই জাহাজে ৫ হাজারেরও বেশি নাবিক এবং এফ-১৮ সুপার হর্নেটসহ ৭৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান রয়েছে। বন্দরে পাঠানোর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এই বিশাল আকাশসীমা সুরক্ষা ও হামলা পরিচালনাকারী ইউনিটটির অনুপস্থিতি ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ৭ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এই অভিযানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল, যার সঙ্গে ছিল গাইডেড মিসাইল ক্রুজার নরম্যান্ডি এবং বেশ কয়েকটি বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার জাহাজ।
বর্তমানে এই রণতরীটি কত দিন গ্রিসের বন্দরে অবস্থান করবে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে যে এটি পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন