
ইরান সোমবার (৯ মার্চ) রাতে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশন গার্ডস করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, এই হামলায় তারা তেলআবিভের স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংস করেছে, যা ইসরায়েলের যুদ্ধবিমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছিল।
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে এই কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, কেন্দ্রটি ইসরায়েলের বিমান ঘাঁটির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এবং স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে অনেক সিনিয়র সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিক প্রভাবিত হন।
ইরান জুড়ে সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে উল্লেখযোগ্য হতাহত হয়েছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করছে। ইসরায়েলের দখলকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তরঙ্গ দিয়ে আমেরিকান এবং ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে।
অন্যদিকে, ইরানের ৫ হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু গত ১০ দিনে ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়েছে।
সেন্টকোম থেকে দেওয়া বিবৃতি অনুসারে, ধ্বংস হওয়া এসব সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ৫০টিরও বেশি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান রয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।
একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে।
মন্তব্য করুন