
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেয়া হবে না। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহন করে, তাই এ ঘোষণার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক হামলা চালাবে।
তবে, এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে। ট্রাম্পের আশাবাদ যে সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে, এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে ইরান তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নিয়োগ দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আশা করছেন, আগে নির্ধারিত চার সপ্তাহের সময়সীমারও আগেই এই সংঘাত সমাপ্ত হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, এই ‘বিজয়’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য ইরানের ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা। আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত এমন একটি ইরানি সরকার গঠনই এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক হবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করার পর থেকে অন্তত ১,৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন