মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানের শাহেদ ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ইরানের শাহেদ ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন আতঙ্ক

ইরানের তৈরি শাহেদ সিরিজের ‘কামিকাজে’ ড্রোন বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এক নতুন আতঙ্ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি হলেও এই ড্রোনগুলো জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন, রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা এবং শক্তিশালী বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতার কারণে দ্রুতই সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার খরচে তৈরি হওয়া এই ড্রোনগুলো বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই চাপে ফেলা যায়।

শাহেদ সিরিজের সবচেয়ে পরিচিত দুটি মডেল হলো শাহেদ-১৩১ ও শাহেদ-১৩৬। এগুলো মূলত একমুখী বা আত্মঘাতী আক্রমণকারী ড্রোন—যাকে সামরিক ভাষায় “লয়টারিং মিউনিশন” বা কামিকাজে ড্রোন বলা হয়।

এই ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর দিকে উড়ে গিয়ে সরাসরি আঘাত হানে এবং বিস্ফোরিত হয়। শত শত মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে এগুলো সামরিক ঘাঁটি, তেল শোধনাগার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোনের সবচেয়ে বড় শক্তি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং এর বিপুল ব্যবহার। ইরান একসঙ্গে বহু ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখে। ফলে পরবর্তী ধাপে বড় ও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।

নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম বলেও দাবি করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শাহেদ ড্রোনের ৯০ শতাংশের বেশি ভূপাতিত করতে পেরেছে। অন্য কিছু দেশ এই সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করেছে।

তবে এখানে একটি বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। মাত্র ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে প্রায় ৪০ লাখ ডলারের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। ফলে অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস হলেও আক্রমণকারী পক্ষের জন্য এটি কৌশলগতভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে।

শাহেদ-১৩১ ও শাহেদ-১৩৬ ড্রোন মূলত ছোট আকারের ডেল্টা-উইংবিশিষ্ট উড়ন্ত অস্ত্র, যার পেছনে একটি প্রপেলারচালিত ইঞ্জিন থাকে। ‘শাহেদ’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ ‘সাক্ষী’। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইরানের শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ এই ড্রোনের উন্নয়ন শুরু করে।

ড্রোনটি উৎক্ষেপণের সময় একটি রকেট বুস্টারের সাহায্যে আকাশে ওঠে। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বুস্টারটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পিস্টন ইঞ্জিন চালু হয়। ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে উড়ে এটি লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঘোরাফেরা করতে পারে এবং সুযোগ বুঝে ডাইভ দিয়ে আঘাত হানে। এর মাথায় প্রায় ৬০ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও এই ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলায় শাহেদ ড্রোন ব্যবহার শুরু করে। এর প্রতিকারে ইউক্রেন একটি বিশেষ অ্যান্টি-ড্রোন স্কোয়াড গঠন করেছে, যা এসব ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসে কাজ করছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিম এশিয়ায়ও এই বিশেষ দল মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি শর্ত হিসেবে বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে হবে।

শাহেদ ড্রোনের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন। আকারে ছোট হওয়ায় রাডারে ধরা পড়া কঠিন হয়। এছাড়া খুব সহজে উৎক্ষেপণ করা যায় বলে কোথা থেকে ড্রোনটি ছাড়া হয়েছে, তা নির্ণয় করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে এর পিস্টন ইঞ্জিনের বিশেষ শব্দের কারণে অনেক সময় ড্রোনটির উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। রাশিয়া এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করেছে বলে ধারণা করা হয়, ফলে এগুলো রাতেও সমান কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

শাহেদ ড্রোনের কার্যকারিতা দেখে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একই ধরনের কম খরচের আক্রমণাত্মক ড্রোন তৈরি করছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই ড্রোনগুলোর নাম দিয়েছে লুকাস বা ‘লো কস্ট আনক্রিউড কমব্যাট সিস্টেম’। ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি এই ড্রোনগুলোর উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা জানায় এবং পশ্চিম এশিয়ায় ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ নামে আত্মঘাতী ড্রোন স্কোয়াড্রন চালু করে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস নাটক, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

X