
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর তালিকায় এখনো শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার, উন্নত প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সামরিক উপস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক শক্তিতে অন্য দেশগুলোর থেকে এগিয়ে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে ব্যয়বহুল এবং উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্র এখন তুলনামূলক কম খরচের অস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহের শেষদিকে সামরিক অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।
এই উদ্যোগ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডারে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলায় মজুদ বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
মার্কিন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল ড্যান কেইনের মতে, দীর্ঘ পাল্লার এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর্যায় অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনী এখন তুলনামূলকভাবে কম মূল্যের জেডিএএম বোমার মতো অস্ত্র ব্যবহার করছে। এগুলি লক্ষ্যবস্তুর ওপরে সরাসরি নিক্ষেপ করা যায়।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সঙ্গে যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলছেন যে, অনেক দূর থেকে প্রাথমিক হামলা চালানোর পরে যুক্তরাষ্ট্র এখন তুলনামূলক কম দামি ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা ব্যবহার করতে পারে।
তিনি বলছেন যে, এভাবে চললে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। যত বেশি দিন যুদ্ধ গড়াবে, লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যাও ছোট হয়ে আসবে, অর্থাৎ যুদ্ধের মাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।
আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা: মার্ক ক্যানশিয়ান বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হাজার হাজার জেডিএএম বোমা আছে, তবে বহুমূল্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ কম। সংঘাতের গোড়ার দিকে সেগুলো ব্যবহার করা জরুরি ছিল, যাতে ইরানের জবাবি হামলার ঝুঁকি প্রতিহত করা যায়।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা খুবই বেশি ছিল – শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে নয়, তার আরব-মিত্র দেশ এবং ইউক্রেনেরও চাহিদা ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিটা প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম পড়ে ৪০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি।
মনে করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর প্রায় সাতশোটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে পারে। ইরানের পক্ষে যদি এখনও ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করার ক্ষমতা থেকে থাকে, তাহলে এই সীমিতসংখ্যক প্যাট্রিয়টের মজুদেও টান পড়বে।
সিএসআইএসের বিশেষজ্ঞ ক্যানশিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ১৬০০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল আছে। এই সংখ্যাটা সম্প্রতি কমে এসেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিমান থেকে ভূমিতে যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চালাতে পারে, তাহলে বিমান প্রতিরোধের লড়াই আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যাট্রিয়টের সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলতে চান, তাহলে আমার মতে ইরানিদের পরাস্ত করতে পারব আমরা – তবে সেক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যদি কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তখন সমস্যা তৈরি হবে।
তবে অস্ত্রের মজুত নিয়ে যে একটা চিন্তা আছে, সেটা স্পষ্ট, কারণ ট্রাম্প এ সপ্তাহের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ইরান আমাদের মজুত শেষ করিয়ে দিতে পারবে না।’
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্য করুন