
২২
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত শনিবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বুধবার প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা যেই হোন না কেন, যদি তিনি ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন, তাহলে তাকে টার্গেট করা হবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে লিখেছেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠীর যে নেতাই নির্বাচিত হোক, তার নাম যা-ই হোক বা তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁকে নিশানা করা হবে। এটি হবে অবশ্যম্ভাবী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে কোনো নতুন নেতা ইরানের সামরিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণে আসার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক আগ্রাসন পরিস্থিতি এমনভাবে উত্তপ্ত হয়েছে যে, নতুন নেতা নির্বাচন এবং ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনসহ ইসরায়েলের এই হুমকি ইরানের রাজনৈতিক গঠনতন্ত্র এবং সামরিক নীতি উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। ইসরায়েলের এই হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরানের বর্তমান নীতি ও সম্ভাব্য নেতৃত্বের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করার ইঙ্গিত দেয়।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং নতুন নেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যে কোনো অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই পরবর্তী সময়ে ইরানের নতুন নেতার দায়িত্ব নেওয়া এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও জটিল করতে পারে।
মন্তব্য করুন