
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশের পর লেবাননে নতুন করে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। সকালে লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শুধু দক্ষিণ লেবাননেই সীমাবদ্ধ নেই, রাজধানী বৈরুতজুড়েও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলী দাহিয়েহ এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় লাখো মানুষের বসবাস। অনেকেই ছোট ব্যাগ, শিশু কিংবা বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে নিরাপদ স্থানের দিকে রওনা দেন।
দাহিয়েহকে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীতেও সেখানে কয়েক দফা হামলা হয়েছে। ওই বছরের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ইসরায়েল তা পুরোপুরি মানেনি এবং হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং তাদের নিরস্ত্রীকরণে লেবানন সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
সোমবার (২ মার্চ) রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর পরপরই লেবাননে পাল্টা হামলা শুরু হয়।
ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, হিজবুল্লাহর প্রজেক্টাইল হামলার জবাবে তাদের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, খামেনির হত্যার প্রতিশোধ এবং লেবাননের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে তারা রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তার পর এই প্রথম ইসরায়েলে হামলার কথা স্বীকার করল হিজবুল্লাহ।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, প্রথমে বৈরুতে হামলা শুরু হয়ে পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের ওপর হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, দুর্বৃত্তদের দমন ও জনগণের সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
চলমান উত্তেজনায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রমজানকে ঘিরে প্রস্তুতির বদলে এখন তাদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা।
মন্তব্য করুন