
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের যৌথ সীমান্তে বৃহস্পতিবার রাত থেকে তুমুল সংঘাত শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার জেরে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে সরাসরি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান প্রশাসন দাবি করেছে, তারা সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে “নতুন করে জবাবি হামলা” চালিয়েছে। অপরদিকে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও অনেককে আটক করা হয়েছে। তালেবান সূত্রের দাবি, উপ-আমিরের নির্দেশে রাত ১২টার দিকে হামলা স্থগিত করা হয়।
তবে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সেনা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।
আগেকার সংঘাতের মতো এবারও পাকিস্তানি ও আফগান বাহিনী, উভয় পক্ষই একে অপরকে প্রথমে আক্রমণ করার অভিযোগ করেছে। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে 'যুদ্ধ' ঘোষণা করেছেন।
আফগান শহরগুলোতে একাধিক বিমান হামলার পর, যখন তাদের বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায়, তখন তিনি এই ঘোষণা দেন।
খাজা লিখেছেন, পাকিস্তান সরাসরি উপায়ে এবং বন্ধু দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনীতি চালানো হয়েছে। তবে এবার আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ।
শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বলেছে, আফগান শহরগুলোতে তাদের 'পাল্টা হামলা' ছিল 'আফগান হামলার' জবাব।
এসব হামলায় আফগানিস্তানের ১৩৩ জন যোদ্ধা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের। তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ ।
মন্তব্য করুন