
ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি এফ-২২ র্যাপ্টর স্টিলথ যুদ্ধবিমান। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অনেকে এই পদক্ষেপকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এফ-২২ যুদ্ধবিমান স্থল হামলার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনায়ও অত্যন্ত দক্ষ।
বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত এফ-২২ র্যাপ্টর। এর স্টিলথ প্রযুক্তি শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে দ্রুত আঘাত হানতে সক্ষম। উচ্চগতিসম্পন্ন এই বিমান আকাশযুদ্ধে আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা।
নিজেদের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধবিমান অন্য কোনো দেশের কাছে বিক্রি করে না—যা এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি জড়ো করছে। এর অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর অঞ্চলটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন এলো এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান।
এদিকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেক রাউন্ড আলোচনা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এটিই আলোচনার শেষ সুযোগ হতে পারে। যদি এ আলোচনা থেকে দুই দেশ কোনো চুক্তিতে না পৌঁছাতে পারে তাহলে মার্কিন সেনারা ইরানে হামলা শুরু করতে পারেন।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে সীমিত হামলা চালাবে। এরপর ইরানকে নিজেদের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে বাধ্য করা হবে। এরপরও যদি ইরান রাজি না হয় তাহলে বড় আকারে হামলা শুরু হবে।
ইসরায়েলি এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যে শক্তি জড়ো করেছে সেটি দিয়ে তারা ইরানে টানা চার থেকে পাঁচদিন তীব্র হামলা চালাতে পারবে।
মন্তব্য করুন