
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের প্রেমচাঁদ পার্ক এলাকায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তিন কন্যাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী মুঞ্চুত কেওয়াত পলাতক রয়েছেন।
বুধবার সকালে প্রেমচাঁদ পার্ক এলাকার একটি বাড়ির নিচতলার ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে ঘরের মেঝে রক্তে ভেসে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ২৭ বছর বয়সী অনিতা কেওয়াত ও তার তিন কন্যাসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত তিন শিশুর বয়স আনুমানিক তিন, চার ও পাঁচ বছর।
পুলিশ জানায়, নিহত অনিতা কেওয়াত দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
প্রতিবেশীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন সকালে অনিতা ও তার তিন সন্তানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশী রুবি বলেন, সকালে নিচতলার ঘর রক্তে ভেসে যেতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে চারজনের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত মুঞ্চুত কেওয়াত প্রথমে ভারী বস্তু দিয়ে স্ত্রী ও তিন মেয়ের মাথায় আঘাত করেন। তারা অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চারজনের গলা কেটে হত্যা করা হয়।
দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ড। চারজনের গলার আঘাত এত গভীর ছিল যে শ্বাসনালী পর্যন্ত কেটে গেছে।’
পুলিশের ধারণা, মুঞ্চুত কেওয়াতের তিন মেয়ে আছে। তার স্ত্রী ফের দুই অন্তঃসত্ত্বা। এবারও ছেলেসন্তান হবে কি না, সেই আশঙ্কা থেকে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারেন বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্ভাব্য অন্যান্য কারণের মধ্যে পরকীয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে অপরাধ দমন শাখা ও ফরেনসিক দল। অভিযুক্তকে ধরতে একাধিক পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন