মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ভারতে শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
ভারতে শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

ভারতে ৩৩ শিশুকে দীর্ঘ এক দশক ধরে পাশবিক যৌন নির্যাতন ও সেই নির্যাতনের ভিডিও ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করার অভিযোগে এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন রায় শিশু সুরক্ষায় কঠোর বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উত্তর প্রদেশের বান্দার পকসো (শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা) আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ পি কে মিশ্র এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত এই অপরাধকে “বিরল থেকে বিরলতম” অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন।

দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন উত্তর প্রদেশের জলকল বিভাগের সাবেক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ৫০ বছর বয়সী রাম ভবন এবং তাঁর ৪৭ বছর বয়সী স্ত্রী দুর্গাবতী।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অভিযুক্তদের সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মৃত্যুদণ্ডই উপযুক্ত শাস্তি।

আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বান্দা ও চিত্রকূট জেলায় তিন থেকে ১৩ বছর বয়সী অন্তত ৩৩টি শিশুকে এই দম্পতি টার্গেট করেন।

শিশুদের অনলাইন গেম খেলার প্রলোভন, অর্থ ও উপহারের লোভ দেখিয়ে নিজেদের ফাঁদে ফেলতেন তারা। পরে ভয়াবহ নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও ও স্থিরচিত্রে ধারণ করে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো।

ডার্ক ওয়েবের এই ভয়ংকর নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিকভাবে শিশু নির্যাতনের কন্টেন্ট ছড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

দীর্ঘদিনের এই পাশবিক অত্যাচারে অনেক শিশুর শারীরিক ও মানসিক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে যে, কিছু শিশুর চোখে স্থায়ী ট্যারাভাব তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজনকে যৌনাঙ্গের গুরুতর ক্ষতের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। এই ট্রমা কাটাতে দিল্লির এইমস-এর চিকিৎসকদের বিশেষ সহায়তা নিতে হয়েছে।

ভয়াবহ এই অপরাধ চক্রের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২০ সালে। ডার্ক ওয়েবে শিশু যৌন নির্যাতনের কন্টেন্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের নজরে আসার পর তারা ভারত সরকারকে সতর্ক করে।

ইন্টারপোলের তথ্যের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্তে নামে এবং ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর একটি এফআইআর দায়ের করে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই দম্পতির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তদন্তে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ এবং ভুক্তভোগী শিশুদের সাহসী সাক্ষ্যই অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণে মূল ভূমিকা পালন করেছে।

আদালত দণ্ডিত দম্পতিকে পকসো আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রতিটি ভুক্তভোগী শিশুকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য উত্তর প্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি কমল সিং গৌতম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুরা এখনো সেই ভয়াবহ স্মৃতির ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই রায়ের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষায় ভারতের বিচার ব্যবস্থা এক কঠোর বার্তা প্রদান করল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস নাটক, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

X