
এই বছরের রমজানের প্রথম জুমার নামাজে ইসরায়েল-অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে হাজার হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।
ইসরায়েলি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নামাজ চলাকালীন কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। মুসল্লিদের অনেকেই দামেস্ক গেট হয়ে জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশ করে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থানে পৌঁছান। সেখানে পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যেই মানুষ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক এএফপি সাংবাদিক জানান, মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মুসল্লি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। লাউডস্পিকারে নামাজের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয় এবং রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশের নিচে অনেকে সিজদায় অবনত হন। পেছনে ঐতিহাসিক সোনালি গম্বুজ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।
অধিকাংশ মুসল্লি পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলের বাসিন্দা হলেও অনেকে দখলকৃত পশ্চিম তীর থেকে চেকপয়েন্ট পার হয়ে আল-আকসায় পৌঁছান। এর মধ্যে জেরুজালেম ও রামাল্লাহর সংযোগকারী প্রধান কালান্দিয়া চেকপয়েন্ট উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
এক এএফপি সাংবাদিক জানান, সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইসরায়েলি সেনাদের অনুমতির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর দাঙ্গা-প্রতিরোধী পোশাক পরা সেনারা পাহারা দিচ্ছিল। জর্দানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই স্থানটির ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইসলামিক ওয়াকফ জানিয়েছে, প্রায় ৮০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায়ের জন্য জেরুজালেমে এসেছিলেন।
রমজান মাসজুড়ে পবিত্র শহরটিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে ইসরায়েল জেরুজালেমে হাজার হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি, ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জন্য গত বছরের মতোই ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের মধ্যে মাত্র ১০ হাজার জনকে পারমিট দেওয়া হবে। যাতে তারা রমজানে আল-আকসা মসজিদে সাপ্তাহিক জুমার নামাজে অংশ নিতে পারেন। এই অনুমতি কেবল ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারী, ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রযোজ্য।
পশ্চিম তীরের বাসিন্দা উম আওয়াদ নামে এক ফিলিস্তিনি নারী, যার পারমিটের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, তাকে চেকপয়েন্ট পার হয়ে জেরুজালেমে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘তারা খুব সীমিত সংখ্যক মানুষকে পারমিট দিচ্ছে। আমরা আবেদন করেছিলাম—কেউ কেউ পেয়েছে, আবার অনেকের আবেদন বাতিল হয়েছে। আমাদের নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া ঠিক নয়।’
আরেক ফিলিস্তিনি জিহাদ বিশারাত, যাকে কালান্দিয়া চেকপয়েন্টে জেরুজালেমে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেন, ‘আজ যদি তারা আমাদের যেতে বাধা দেয়, তবুও আমি আগামী শুক্রবার এবং তার পরের শুক্রবার আবার আসব, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ আমাদের আল-আকসায় যেতে বাধা দিতে পারবে না।’
জেরুজালেম পুলিশের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া।
মন্তব্য করুন