
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, বুধবার থেকে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন উপলক্ষে পূর্ব জেরুজালেম এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক কেএএন জানিয়েছে, রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আজ সকাল থেকে নিরাপত্তা সংস্থা বিভিন্ন স্থানে সতর্কতার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর এবং সিম লাইনের ওপর।
এই নিরাপত্তা পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব, বিশেষ করে ইরান ইস্যু। কেএএন জানিয়েছে, পুরাতন শহর ও আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের আশেপাশে পুলিশ ও সীমান্ত পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রমজানের প্রথম দিনগুলোতে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে, চরম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি হিসেবে।
পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি উপাসকদের প্রবেশ নিয়ে আলোচনা চলছে। পরে ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, ১০ হাজার ফিলিস্তিনি উপাসককে সাপ্তাহিক জুমার নামাজে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রমজানকে সামনে রেখে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করেছে এবং নির্বাসনের আদেশ জারি করেছে।
ওয়াদি হিলওয়ে ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, অভিযানে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগের কর্মী, সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি কর্মীদের। তাদের মতে, আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে—এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
গাজায় চলমান গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের যাতায়াতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দুই অঞ্চলের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক চেকপোস্ট স্থাপন করে রেখেছে এবং কেবল ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষের জারি করা অনুমতিপত্রধারীদেরই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। তারা আন্তর্জাতিক প্রস্তাবগুলোর কথা উল্লেখ করে বলে যে, ১৯৬৭ সালে শহরটি দখল এবং ১৯৮০ সালে এর অবৈধ সংযুক্তিকরণকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়নি।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে (পূর্ব জেরুজালেমসহ) সামরিক বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে অভিযান জোরদার করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড, বাড়িঘর ধ্বংস, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং বসতি সম্প্রসারণ।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
মন্তব্য করুন