
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে আঘাত হানতে যাচ্ছে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভয়ংকর শীতকালীন ঝড়, ‘বোম্ব সাইক্লোন’। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঝড়ের প্রভাবে ভারী তুষারপাত, বিধ্বংসী ঝোড়ো বাতাস এবং উপকূলীয় বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ঝড়টির প্রভাব স্পষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে শনিবার রাত নাগাদ নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলীয় এলাকায় ভারী তুষারপাত এবং প্রায় হারিকেন-গতির দমকা হাওয়া পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।
যদি ঝড়টির পথ উপকূলের আরও কাছে চলে আসে, তাহলে নিউ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে পূর্ব ম্যাসাচুসেটসেও তুষারপাত ও প্রবল বাতাসের প্রভাব দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে নর্থ ক্যারোলাইনার উপকূলে ঝড়টি সৃষ্টি হবে এবং শনিবার দ্রুত উত্তরমুখী হয়ে শক্তি সঞ্চয় করবে। এই প্রক্রিয়াকে ‘বোম্বোজেনেসিস’ বলা হয়। এতে দক্ষিণ-পূর্বে প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাস নেমে আসবে এবং এমন এলাকায়ও তুষারপাত হতে পারে, যেখানে সাধারণত শীতকালীন আবহাওয়া বিরল।
দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে শীতকালীন ঝড় সংক্রান্ত সতর্কতার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়ার উত্তরাংশ, ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়া। এই এলাকায় অনেক অংশ এখনও গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী শীতঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ান, জর্জিয়া, ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়া-তে উল্লেখযোগ্য তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে- মধ্য ও পূর্ব নর্থ ক্যারোলাইনা: ৫–১০ ইঞ্চি। মধ্য ও উত্তর-পূর্ব সাউথ ক্যারোলাইনা: ৫–১০ ইঞ্চি। দক্ষিণ ভার্জিনিয়া: ৫–১০ ইঞ্চি, কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি।
নর্থ ক্যারোলাইনার আউটার ব্যাংকস এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভার্জিনিয়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ঝড়ের সঙ্গে দমকা বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ভারী তুষারপাতের সঙ্গে এটি মিলিত হলে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে।
প্রবল অনশোর বাতাস মাসের সর্বোচ্চ জোয়ারের সঙ্গে মিলিত হয়ে উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি বাড়াবে। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত নর্থ ক্যারোলাইনার আউটার ব্যাংকস এবং ভার্জিনিয়ার টাইডওয়াটার অঞ্চলে মাঝারি থেকে গুরুতর বন্যা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ঝড়ের পথ যদি সামান্য পরিবর্তিত হয়, তবে নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের প্রভাব বড়ভাবে বদলে যেতে পারে। তাই সবাইকে সর্বশেষ স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস মনোযোগ দিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন