
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট এড়াতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতা চেষ্টা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সামরিক অভিযানের হুমকি দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা তাদের দেশ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার তুরস্কে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, “পারস্পারিক স্বার্থের ভিত্তিতে তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।”
এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে যখন তেহরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা তুঙ্গে। আঞ্চলিক নেতারা আশা করছেন, তুরস্কের সঙ্গে উচ্চস্তরের বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রকে শান্ত করতে এবং হামলা এড়াতে সাহায্য করবে।
গত বুধবার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশাল মার্কিন নৌবহর (‘আর্মাডা’) ইরানের জলসীমার কাছে পৌঁছেছে। তিনি ইরানের সরকার পরিবর্তন এবং সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে ইরানি শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তারা বারবার জানাচ্ছেন যে তারা আলোচনা নয়, বরং প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত। তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশকে রক্ষায় তারা এখন ২০০ শতাংশ প্রস্তুত।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে। গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর, দেশটির সেনাবাহিনী বহু সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে। বৃহস্পতিবার, ইরানি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে যে তারা নতুন কৌশলগত এক হাজার ড্রোন যুক্ত করেছে, যার মধ্যে আত্মঘাতী ড্রোনও রয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার আমির হামাতি বলেন, হুমকির মাত্রা অনুযায়ী, আমাদের লক্ষ্য দ্রুত যুদ্ধের জন্য কৌশলগত সুবিধা বজায় রাখা, উন্নত করা এবং যেকোনো আগ্রাসনের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন।
এছাড়া, ইরানের সাধারণ জনগণও মার্কিন হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুত। একজন তরুণ নারী আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কিছু করতে পারবে না। যদি তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, আমরা চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানাবো।
ইরান সরকার বেসামরিক প্রস্তুতিতেও জোর দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর গভর্নরদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করা যায় এবং বিমান হামলার সময় জনসাধারণের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা যায়।
মন্তব্য করুন