
ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সরাসরি হামলায় ব্রিটেন অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে, যদি তেহরান পাল্টা আক্রমণ চালায়, তখন মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত রয়েছে ব্রিটিশ বাহিনী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, কাতারে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর (আরএএফ) ‘টাইফুন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা প্রতিহত করার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন ‘প্রথম আঘাত’ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ নয়। তবে কাতার বা অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্ররা যদি নিরাপত্তার কারণে সাহায্যের আবেদন করে, ব্রিটিশ বাহিনী সেখানে অংশ নিতে পারে।
সম্প্রতি লিংকনশায়ার থেকে আরএএফ-এর ১২ নম্বর স্কোয়াড্রন কাতারে তাদের ঘাঁটিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে কাতারকে রক্ষা করা। কাতারে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন বিমানঘাঁটি আল-উদাইদ, যেখানে ব্রিটিশ সেনাও কর্মরত রয়েছেন।
চীন সফরের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প খোলা রেখেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিল ও অক্টোবর মাসে ইসরায়েলের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ব্রিটেন আত্মরক্ষামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় সহায়তা দিয়েছিল। টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো মূলত ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় কার্যকর। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ ও ‘থাড’ সিস্টেমের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে জর্ডানে মোতায়েন মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা রক্ষা করছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন