
ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ফের একবার বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার হুমকির জবাবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যদি কোনো ধরনের হামলা হয়, তাদের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী "ট্রিগারে আঙুল দিয়েই প্রস্তুত"। যদিও তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট যে কোনো আক্রমণের জবাব তেহরান দিতে প্রস্তুত।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের চাপ ক্রমবর্ধমান। তিনি সম্প্রতি ইরানের খামেনি-বিরোধী বিক্ষোভকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। এ সময়, মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন পশ্চিম এশিয়ার কাছে সমুদ্রে পৌঁছেছে, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আরঘচি স্পষ্ট করেছেন, ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে চুক্তিটি যেন দুই পক্ষের জন্যই ন্যায্য ও পক্ষপাতহীন হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ইরান কোনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, তবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু কার্যক্রম চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে এবং তা চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
সমাজমাধ্যমে আরঘচি লেখেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তৈরি রয়েছে। ট্রিগারে আঙুল দিয়েই রেখেছেন তারা। আমাদের ভূখণ্ডে, আকাশ বা জলসীমায় কোনও ধরনের হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে জোরালো জবাব দেবে তারা।
একইসঙ্গে তিনি এ-ও লেখেন, উভয় পক্ষেরই সুবিধা হবে এমন কোনও ন্যায্য এবং পক্ষপাতহীন পরমাণু চুক্তিকে ইরান সবসময় স্বাগত জানায়। তবে এই চুক্তিতে যেন দু’পক্ষেরই সমান সুবিধা হয়। সেখানে যেন কোনও জোরজবরদস্তি, হুমকি বা ভয় দেখানোর ব্যাপার না থাকে।
আব্বাস আরঘচি ফের দাবি করেছেন, ইরান কোনও পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায় না। কিন্তু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে এবং চুক্তিতে তা নিশ্চিত করতে হবে।
বস্তুত, এই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে কেন্দ্র করেই গত বছর সংঘর্ষ জড়িয়েছিল ইরান এবং ইজরায়েল। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সন্দেহ, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।
একই সন্দেহ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও। এই সন্দেহ থেকেই গত বছরের সংঘর্ষের সময়ে আমেরিকাও জড়িয়ে পড়ে। তারাও বোমারু বিমান পাঠিয়ে ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালায়।
এরই মধ্যে সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন রণতরী। এই ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন যুদ্ধবিমানও বহন করতে পারে। যুদ্ধবিমান ওঠানামা করার জায়গা রয়েছে এই রণতরীতে।
ঘটনাচক্রে, তার কিছুদিন আগেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তিনি একটি ‘বড় নৌবহর’ পাঠাচ্ছেন পশ্চিম এশিয়ায়। এরই মধ্যে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির জন্য ইরানের উপর চাপ তৈরি করেছেন।
তিনি বলেছেন, আলোচনায় বসার জন্য ইরানের হাতে আর বেশি সময় নেই। তার পরেই আমেরিকার নাম না করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ইরানের ররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি।
মন্তব্য করুন